শনিবার, মে ২৮, ২০২২ || ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম :
ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত হয়ে উত্তরবঙ্গের সাথে রেল যোগাযোগ বন্ধ বুরকিনা ফাসোতে সশস্ত্র হামলায় ৫০ জন নিহত সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইউক্রেনে বিজয় নিশ্চিত করতে চায় রাশিয়া গণতন্ত্র পেতে গণ-যুদ্ধে নামুন-ফখরুল, লাশ ফেলার ষড়যন্ত্র করছে বিএনপি-ওবায়দুল লাদাখে ভয়াবহ গাড়ি দুর্ঘটনায় নিহত ৭ ভারতীয় সেনা জওয়ান, মোদি-রাজনাথের শোক প্রকাশ পারস্য উপসাগর থেকে গ্রিসের ২ তেল ট্যাংকার আটক করল ইরান কা‌লিয়া‌কৈ‌রে ট্রেন লাইনচ্যুত, ১০ ঘণ্টা বন্ধ ঢাকা-উত্তরব‌ঙ্গ রেলযোগাযোগ ঢাকায় আনা হচ্ছে আবদুল গাফফার চৌধুরীর মরদেহ, বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশিসহ ৫১ অবৈধ অভিবাসী আটক দিন দিন মুখের ‘শ্রী’ হারাচ্ছে? বিশেষজ্ঞর থেকে জেনে আসল কারণ…
মহিলা খেলোয়াড়দের পেশাগত কারণে সম্মুখীন হতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে, উত্তরণের পথ কোথায়?

মহিলা খেলোয়াড়দের পেশাগত কারণে সম্মুখীন হতে হয় নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে, উত্তরণের পথ কোথায়?


নারী আর পিছিয়ে নেই। যাকে আমরা ‘অর্ধেক আকাশ’ বলে দাগিয়ে দিয়েও সরিয়ে রাখি ব্রাত্য করে, তারা নিজেরাই ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে গোটা আকাশ। আর করবে না-ই বা কেন? কারণ মেয়েরা চাইলে সব পারে। খেলাধূলার কথাই ধরুন না। প্রতিযোগিতামূলক খেলাধূলায় অংশগ্রহণকারী নারীদের উপস্থিতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিঙ্গগত স্টিরিয়ো টাইপ এবং সামাজিক প্রথাগত নিয়মকানুনের বেড়াজাল ভেঙে তা সত্ত্বেও নারীরা লড়ছে পুরুষদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। এবং এক ইঞ্চিও ময়দান ছাড়ছে না।

মহিলা ক্রীড়াবিদরা কেমন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে বাধ্য হন প্রত্যেক দিন ?

১ ) লিঙ্গ সমতা : এই সমস্যা আজকের নতুন নয়। বহু বছর ধরে বেশ কিছু খেলাকে এমন ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন, সেই খেলাগুলো পুরুষদের জন্য বিশেষ ভাবে প্রযোজ্য। যেমন ফুটবল, আইস হকি ইত্যাদি। আবার উলটো দিকে জিমন্যাস্টিকস এবং ফিগার স্কেটিং -এর মতো খেলাধূলাকে দাগিয়ে দেওয়া হয় মেয়েলি হিসেবে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এই বাধাগুলি ভাঙা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

Read more Coronavirus: করোনায় সেরে উঠে বারবার মুড বদল! Long Covid নয় তো?

২ ) যৌনতা : নারীদের বরাবরই তাদের সম্ভাবনা এবং প্রতিভার চেয়ে তাদের নান্দনিকতার জন্য বেশি বিচার করা হয়। যে সব মহিলাদের চেহারা তুলনায় বড়, এবং যাঁরা পেশি বহুল, তাঁদের দাগিয়ে দেওয়া হয় ‘পুরুষালি’ বলে।

৩ ) শরীর সংক্রান্ত ধারণা : কিছু খেলাধূলা, যেখানে নান্দনিকতার উপর বেশি নজর দেওয়া হয়, সেখানে স্বাভাবিক ভাবেই শরীর নিয়ে আলাদা চাপ থাকে। অর্থাৎ, শরীরের গড়ন, ওজন… এ সব সব খেলাতেই কম বেশি জরুরি। কিন্তু এই খেলাগুলিতে অর্থাৎ জিমন্যাস্টিকস বা ফিগার স্কেটিং -এর মতো খেলায় রয়েছে সাবজেক্টিভ স্কোরিং। ফলে সেই সব ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি করে নিজেদের শরীর নিয়ে উদ্বেগে থাকেনবা থাকতে বাধ্য হন।

Read more Baba Ramdev: এক সপ্তাহেই কমবে Blood Pressure, Cholesterol! শুধু মেনে চলুন বাবা রামদেবের পরামর্শ

৪ ) হরমোন সংক্রান্ত সমস্যা : বয়ঃসন্ধির সময় এবং মাসিক ঋতুচক্র চলাকালীন শারীরবৃত্তীয় কারণেই মেয়েদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তন হয়। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই ওজন বৃদ্ধি, মেজাজের বদল হয় এবং আঘাতের ঝুঁকিও বাড়ে সেই সময়ে। ফলে এই হরমোন সংক্রান্ত সমস্যাকে কোনও ভাবেই এড়িয়ে যাওয়া যায় না।

কী ভাবে সামলাবেন এই সমস্যা ?

সমস্যা কখনওই শেষ কথা নয়। সমস্যা থাকলে তার সমাধান থাকবেই। ডায়েটিশিয়ান শ্বেতা ভাটিয়া তাই তুলে ধরছেন এমন সব দিক, যা অনেকাংশেই মহিলা খেলোয়াড়দের এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে সাহায্য করবে। তিনি মূলত সমাধানের পথকে ভাগ করেছেন দু’ ভাগে। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য… দুই -এর প্রতিই খেয়াল রাখার কথা বলেছেন। একে একে সে দিকে নজর দেওয়া যাক।

Read more Diabetes Diet Plan: সুগার রোগীদের জন্য ম্যাজিক এই ফল, এর পাতা-ডাঁটা-মূলও রক্তের শর্করা দ্রুত কমাতে পারে!

ক ) শারীরিক স্বাস্থ্য :

১ ) মহিলা খেলোয়াড়দের শারীরিক স্বাস্থ্যের সমস্যা হতে পারে নানা রকম। পেশার প্রয়োজনেই অত্যধিক ব্যায়াম কখনও কখনও তাকে ঠেলে দেয় খাদের কিনারায়। আবার এর পাশাপাশি অ্যানাবলিক স্টেরয়েড এবং সাপ্লিমেন্টের অপব্যবহারও একটা কারণ হতে পারে। অনেককে ডিইউরেটিকস অথবা ফ্যাট বার্নার ব্যবহার করতে দেখা যায়।

২ ) আবার নানা অনিয়ম মহিলা খেলোয়াড়দের ঠেলে দিতে পারে ফিমেল অ্যাথলিট ট্রায়াড বা এফ আ টি -এর দিকে। তার মধ্যে তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত সমস্যা পরিলক্ষিত হয় : শরীরের প্রয়োজন অনুপাতে কম ক্যালরির খাবার খাওয়া, অস্টিওপোরোসিস এবং অ্যামেনোরিয়া (স্বাভাবিক মাসিক ঋতুচক্রের অনুপস্থিতি)। এই ব্যাপারগুলি মেয়েদের জন্য দীর্ঘস্থায়ী সমস্যাকেই ডেকে আনতে পারে।

৩ ) আবার আর ডব্লিউ এল বা র‍্যাপিড ওয়েট লস -এর জন্য বেশি পরিমাণে ওয়েট লিফটিং, রেসলিং, মার্শাল আর্ট বা বক্সিং -এর মতো অনেক খেলাই বেছে নেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে কোনও বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে এই কাজগুলি করলে তা শরীরের ঝুঁকি কমায়।

৪ ) কঠিন ব্যায়াম বা শারীরচর্চার পাশাপাশি ঠিক মতো ডায়েটও অত্যন্ত জরুরি। এমন সুষম আহার খেতে হবে প্রত্যেক দিন, যাতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরি, প্রোটিন, ভিটামিন এবং খনিজ যথেষ্ট পরিমাণে থাকে।

৫ ) কার্বোহাইড্রেট : অ্যাথলেটদের ওজন কমানো বা বাড়ানোর প্রয়োজন কি না তার উপর পরিমাণ নির্ভর করে কে কত পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট খাবেন। মুসুর ডাল, শাক সবজি, বাদাম এবং দুগ্ধজাত খাবার থেকে পাওয়া যায় স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট।

৬ ) প্রোটিন: প্রত্যেক দিন নিয়ম করে প্রায় ১.২ থেকে ১.৫ গ্রাম / প্রতি কেজি শারীরিক ওজনের জন্য প্রয়োজন। অর্থাৎ, কারও ওজন যদি ৮০ কিলোগ্রাম হয়, তা হলে তাঁকে প্রোটিন খেতে হবে অন্তত পক্ষে ৯৬ গ্রাম থেকে ১২০ গ্রাম। ডিম, দুধ, মাংস, হোয়ে প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করা যেতে পারে এই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে।

৭ ) ফ্যাট : এমন ফ্যাটই ইনটেক করা উচিত, যা স্বাস্থ্যকর। অলিভ অয়েল, রাইস ব্র্যান অয়েল, চিনা বাদামের তেলে রান্না করা যেতে পারে। বাদাম, বীজ, অ্যাভোকাডো, মাছ থেকেও আসে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। কম পক্ষে ৩০ শতাংশ ক্যালরি আসা উচিত এই গৃহীত ফ্যাট থেকে।

৮ ) কেন অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেটের বদলে প্রোটিন এবং ফ্যাট খাওয়া ভাল ? এর ফলে ওজন হ্রাস পায় স্বাস্থ্যকর ভাবে, পেটের চর্বি হ্রাস পায়, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং লিপিড প্রোফাইলও ভাল হয়।

৯ ) মহিলা খেলোয়াড়, বিশেষ করে নিরামিষাশীদের আয়রন, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি এবং জিঙ্কের ঘাটতির ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই মাইক্রো নিউট্রিয়েন্টসের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।

১০ ) পিরিয়ডসের সমস্যা থাকলে আয়রনের ঘাটতি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। রক্তের মাত্রা পরীক্ষা করে তাই প্রয়োজন হলে আয়রন সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে।

১১ ) ১৯ থেকে ৩০ বছর বয়সী মহিলাদের জন্য পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের পরিমাণ প্রায় প্রত্যেক দিন অন্তত ২.২ লিটার। জলের পরিমাণ কমালে চলবে না। কারণ পেশাগত কারণে অতিরিক্ত ঘাম নিঃসরণের প্রবণতা থাকে তাঁদের। এর পাশাপাশি শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়াম এবং ম্যাগনেশিয়ামের পরিমাণ কী থাকছে, সে দিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।

ক ) মানসিক স্বাস্থ্য :

খেলোয়াড়দের মধ্যে যদি খাবার গ্রহণ সংক্রান্ত কোনও বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, তা হলে তাকে অ্যানোরেক্সিয়া অ্যাথলেটিকা বলা হয়। কঠোর ডায়েট এবং নিয়ম মেনে চলতে চলতে অনেক সময়ে মানসিক চাপ পড়তে পারে। এর পাশাপাশি পারফরম্যান্সের চাপ তো রয়েছেই। তবে সমস্যা বাড়লে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। আসলে এ কথা ভুলে গেলে চলবে না যে, মন ভাল থাকলে বিশ্বও জয় করা যায়।

এই ব্যাপারগুলি শুধু কোনও পেশাদার মহিলা খেলোয়াড়ই নয়, যাঁরা খেলাকে পেশা হিসেবে বেছে নেবেন বলে এখন ভাবছেন, তাঁদের সকলের ক্ষেত্রেই কিন্তু প্রযোজ্য।

শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লাইট অফ টাইমস
Design & Developed By Eng.Md.Abu Sayed