Main Menu

করোনার আবহে অচেনা নববর্ষ

মোহাম্মাদ নুরুজ্জামানঃ চৈত্রের রুদ্র দিনের পরিসমাপ্তির মাধ্যমে গতকাল ১৪২৭ সনকে বিদায় জানিয়ে বাংলা বর্ষপঞ্জিতে আজ যুক্ত হবে নতুন বছর। আজ পহেলা বৈশাখ। একটি নতুন বছরের শুভ সূচনা। শুভ নববর্ষ। স্বাগত ১৪২৮। জীর্ণ-পুরাতনকে পেছনে ফেলে সম্ভাবনার নতুন বছরে প্রবেশ করবে বাঙালি জাতি। বৈশাখে বর্ণিল উৎসবে মাতবে দেশ। সকালে ভোরের প্রথম আলো রাঙিয়ে দেবে নতুন স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর সম্ভাবনাকে।

এবার বাংলা নববর্ষ এমন এক সময়ে এসেছে যখন বাংলাদেশসহ গোটা বিশ্ব করোনাভাইরাসের মহামারীতে আক্রান্ত।বিশ্বজুড়ে মৃত ও আক্রান্তের সংখ্যা প্রতি মুহূর্তেই বাড়ছে। বাংলাদেশও এর ব্যাতিক্রম নয়।দেশের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ভীতি ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দেশে লকডাউন চলছে।সব কিছু প্রায় বন্ধ। মানুষ ঘরবন্দি। সামাজিক বিচ্ছিন্নতা মেনে চলতে হচ্ছে। একেবারেই এক অচেনা নববর্ষ আপামর বাঙালির। আর কখনও যেন না আসে এমন নববর্ষ।

বাংলা সন ও নববর্ষ উদযাপন মূলত মুসলিম ঐতিহ্যজাত এবং মুসলিম শাসকরাই তা প্রবর্তন করেন। বাংলা সনের সঙ্গে বাংলার শাসনব্যবস্থার সংস্কারে মুসলমান শাসকদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। দিল্লী সালতানাতের সময়ে হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসরণ করা হলেও কৃষিভিত্তিক সমাজ বাস্তবতায় হিজরি বর্ষপঞ্জি ও কর আদায়ের ক্ষেত্রে কিছু অসামঞ্জস্য দেখা দেয়ায় একটি নতুন সনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এই প্রেক্ষাপটে ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আকবর হিজরি সনের ভিত্তিতে বাংলা বর্ষপঞ্জি প্রবর্তনের নির্দেশ দেন।

মুঘল রাজদরবারের দার্শনিক ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফতেহ্উল্লাহ সিরাজী হিজরি সন ও সৌর সনের সমন্বয় করে বাংলা সন প্রবর্তন করেন। ব্রিটিশ আমলে খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি আমাদের সমাজে বাংলা সন ও বাংলা বর্ষপঞ্জির প্রচলন ও প্রভাব অক্ষুন্ন ছিল। মুঘল আমলে প্রবর্তিত বাংলা বর্ষপঞ্জিতেও কিছু সমস্যা দেখা দেয়ায় ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা বর্ষপঞ্জিতে কিছু সংস্কার আনেন। তার সংস্কার অনুসারে এখন প্রতিবছর ১৪ এপ্রিলে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখে বর্ষবরণের উৎসব হয়ে থাকে।

বাংলা বর্ষবরণ একই দিনে হয় না। দেশ ভাগ হয়েছে, সংস্কৃতি ভাগ হয়নি, এ কথা অচল। যখন এক দেশ ছিল, তখনও আজকের বাংলাদেশের সংস্কৃতি ভারতের অন্যান্য অংশের সংস্কৃতি থেকে পৃথক ছিল। একে কোনোভাবেই আর এক করা যাবে না। একথা অবশ্যই আমাদের স্মরণ রাখতে হবে। আমাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের স্বার্থেই বহিরাগত ও অপসংস্কৃতির স্থলে নিজস্ব সংস্কৃতির প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এবারের নববর্ষ সকলের জন্য কল্যাণ ও সাফল্য বয়ে আনুক, এটাই কাম্য।

পরিশেষে বাংলা নববর্ষে দৈনিক লাইট অফ টাইমস’র পাঠক, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশ ও প্রবাসের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

প্রকাশক ও চেয়ারম্যান সম্পাদকীয় বোর্ড।






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: