Main Menu

স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি ‘কাগজে’: বেশিরভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক চায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলুক


শ্রোতা/পাঠক!১৭ আগস্ট মঙ্গলবারের কথাবার্তার আসরে স্বাগত জানাচ্ছি আমি গাজী আবদুর রশীদ। আশা করছি আপনারা প্রত্যেকে ভালো আছেন। আসরের শুরুতে ঢাকা ও কোলকাতার গুরুত্বপূর্ণ বাংলা দৈনিকগুলোর বিশেষ বিশেষ খবরের শিরোনাম তুলে ধরছি। এরপর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবরের বিশ্লেষণে যাবো। বিশ্লেষণ করবেন সহকর্মী সিরাজুল ইসলাম।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবরের শিরোনাম:

  • চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ-ইত্তেফাক
  • পুলিশের হামলায় অসংখ্য নেতাকর্মী আহত হয়েছে: ফখরুল-যুগান্তর
  • স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি ‘কাগজে’-প্রথম আলো
  • আফগানিস্তানে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার হতে যাচ্ছে!-মানবজমিন
  • শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী-নেপথ্যে কারা তা-ও একদিন বের হবে-কালের কণ্ঠ
  • কেরানীগঞ্জে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধ, নিহত ২ -বাংলাদেশ প্রতিদিন

এবার ভারতের  কয়েকটি খবরের শিরোনাম:

  • বিনা বাধায় নয়, যেভাবে তালিবানি রক্তচক্ষুর মধ্যে দূতাবাস কর্মীদের উদ্ধার করল দিল্লি-আনন্দবাজার
  • পিছিয়ে পড়ছেন নরেন্দ্র মোদি, এগোচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি-আজকাল
  • ‘গণতন্ত্র মানে কি পোশাক ছাড়া রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো?’,বিতর্কিত মন্তব্য দিলীপ ঘোষের -সংবাদ প্রতিদিন

শ্রোতাবন্ধুরা! শিরোনামের পর এবার দু’টি বিষয়ের বিশ্লেষণে যাব। 

কথাবার্তার বিশ্লেষণের বিষয়:

১. আফগানিস্তানের কিছু মানুষকে বাংলাদেশে আশ্রয় দিতে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান। এ শিরোনাম বাংলাদেশ প্রতিদিনের। আপনার মন্তব্য কী?

২. আফগানিস্তানের চলমান ঘটনাবলীতে বিশ্ব থেকে যে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে শিগগিরি স্বীকৃতি পাবে তালেবান। আপনার কী মনে হয়?

বিশ্লেষণের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খবর

চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ-ইত্তেফাক/প্রথম আলো

রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির নেতা–কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নেতা–কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে বিএনপি। ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। সংঘর্ষের পরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঘটনাস্থলে যান। এরপর তিনিসহ নেতা–কর্মীরা দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। তিনি অভিযোগ করেন,চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপির পূর্বনির্ধারিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। 

বিএনপির নেতা–কর্মীরাও বলছেন, পূর্বঘোষণা অনুযায়ী আজ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নবগঠিত কমিটির নেতা–কর্মীদের বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানানোর কর্মসূচি ছিল। তবে পুলিশ বলছে, সেখানে এ কর্মসূচি পালনের জন্য বিএনপি অনুমতি নেয়নি। 

শোক দিবসের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী-নেপথ্যে কারা তা-ও একদিন বের হবে-কালের কণ্ঠ

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে, যারা পাশে ছিল, যারা এভাবে ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিয়েছে, সবাই কিন্তু সমানভাবে দোষী। আমি অনেক ঘটনা জানি। কিন্তু আমি শুধু আগে হত্যার বিচার জরুরি ছিল, সেটা করেছি। ধীরে ধীরে কারা এর পেছনে জড়িত ছিল, সেটাও একদিন বের হবে। তবে সে দিনও বেশি দূরে না।’ তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনাসভায় এসব কথা বলেন। জাতীয় শোক দিবস স্মরণে এ আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। 

আলোচনাসভায় ২৫ মিনিটের বক্তব্যে শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র, তাঁকে হত্যার পেছনের কারণসহ নানা বিষয়ে কথা বলেন। ১৯৭৫ সালের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন প্রধানমন্ত্রী।

আফগানিস্তান পরিস্থিতি নিয়ে প্রথম আলোর কয়েকটি শিরোনাম- তালেবানের পুনরুত্থানে বাইডেনের সামনে চার চ্যালেঞ্জ। আফগান অর্থনীতির সামনে কী? মতামত তালেবানের বিজয় ও উদ্বেগের কিছু দিক। আফগানিস্তানের সামরিক সরঞ্জাম জঙ্গিদের কাছে যাওয়ার আশঙ্কা। যুগান্তরের শিরোনাম- তালেবানের তথ্য নিষিদ্ধ করেছে ফেসবুক। কাবুল বিমানবন্দরে সামরিক ফ্লাইট চালু। বাইডেন প্রশাসনের ‘সমালোচনায় মুখর’ মার্কিন সেনারা। কাবুল বিমানবন্দর পরিকল্পনা থেকে পিছু হটল তুরস্ক। আফগান মাটি সন্ত্রাসে ব্যবহৃত না হলে প্রতিবেশীরা নিরাপদ বোধ করবে: ভারত। এটি মানবজমিনের শিরোনাম। এতে বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করতে রাজধানী কাবুল ফিরেছেন তালেবানের সিনিয়র নেতা আমির খান মুত্তাকি। সাবেক প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই, আবদুল্লাহ আবদুল্লাহসহ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে তার আলোচনা করার কথা। এর মধ্যে আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এক সময় দেশটির সমঝোতা বিষয়ক পরিষদের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। একটি সূত্র বলেছেন, আফগানিস্তানে হতে যাচ্ছে সবার অংশগ্রহণমূলক সরকার। তালেবান নন, এমন রাজনৈতিক নেতাদেরকেও এই সরকারে ঠাঁই দেয়া হবে। তালেবানরা দেশ দখল করেছে দু’দিন হলো। কিন্তু এখনও সরকার গঠন না হওয়ার নেপথ্য কারণ হলো এটা। বার্তা সংস্থা এপি’কে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে অনলাইন আল জাজিরা। দৈনিকটি আরও লিখেছে,আফগান পরিস্থিতি এখনো ঘোলাটে। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করলো তালেবান।

আফগান সামলাতে ইরান সীমান্তে দেয়াল তুলছে তুরস্ক-বাংলাদেশ প্রতিদিন

আফগানিস্তান তালেবানের দখলে যেতেই সেদেশ ছাড়তে শুরু করেছে বহু সংখ্যক মানুষ। কাবুল বিমানবন্দরে সৃষ্টি হয় জনসমুদ্রের। এমন পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান থেকে শরণার্থীদের স্রোত ঠেকাতে ইরানের সঙ্গে সীমান্ত দেয়াল তুলতে শুরু করেছে তুরস্ক। 

এ ব্যাপারে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাঁচ কিলোমিটার লম্বা একটি দেয়াল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। তবে ইরান সীমান্ত জুড়ে ২৯৫ কিলোমিটার দেয়াল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে তুরস্কের।

উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরে তালেবান এখন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের চেষ্টা করছে। সংগঠনটি এবার দেশ পরিচালনা করতে চায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে। ইতোমধ্যে তালেবানের সঙ্গে কাজ করবে বলে জানিয়েছে চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক।

স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতি ‘কাগজে’-প্রথম আলো

করোনার সংক্রমণ কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে—শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির কাছ থেকে এমন বক্তব্য এসেছে দিন কয়েক আগে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো বলছে, তারা প্রস্তুত। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, প্রস্তুতি কাগজে আর মুখে মুখে। এখন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টিকা দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য অন্যান্য প্রস্তুতি সেই অর্থে নেই।

কীভাবে জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় আবার চালু করা যায়, তা নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল। স্কুলগুলোকে তারা ওই নির্দেশিকা পাঠিয়েছিল। আলাদাভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো তাদের পরিকল্পনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠায়। কিন্তু তারা কোনো উত্তর পায়নি।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও একটা নির্দেশনা তৈরি করেছিল তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। নির্দেশনাটির শিরোনাম, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতি বিবেচনায় জনস্বাস্থ্য ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুকরণ নির্দেশনা’। চলতি বছরের মার্চ থেকে ওই নির্দেশনা অনুসরণ করে স্কুল-কলেজ খোলার কথা ছিল। কিন্তু করোনার ডেলটা ধরনের প্রকোপ বাড়ায় সে সময় পিছিয়ে আসে সরকার। সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে না নামা পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার পরিকল্পনা নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে কয়েকজন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেছে প্রথম আলো। স্কুল কীভাবে কবে খোলা হবে; প্রাথমিক, মাধ্যমিক না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আগে শ্রেণিকক্ষ ফিরবে; ক্লাসরুমে মাস্ক পরবে কি না—এসব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ আছে। কিন্তু একটা বিষয়ে তাঁরা একমত। সেটা হলো করোনাভাইরাস আগামী কয়েক বছরেও পুরোপুরি নির্মূল হবে না। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এই ভাইরাসকে মোকাবিলা করেই স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরতে হবে।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও আইইডিসিআরের উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘এত দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে না। করোনাভাইরাসের সহজে নির্মূল হওয়ার সম্ভাবনা নেই। অন্তত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মহড়া এখনই শুরু করা উচিত।’

দেশে ১৭ মাস ধরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনার কারণে বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে যে ১৪টি দেশের স্কুল বন্ধ রয়েছে, বাংলাদেশ তার একটি। সম্প্রতি ভারতের কয়েকটি রাজ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। অন্যরাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

করোনার প্রকৃত প্রকোপ কতটা 

শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি গত বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘সরকার দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে। ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত স্কুল-কলেজ খুলছে না।’

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) যে নির্দেশনা চূড়ান্ত করেছে, ততে বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করতে হবে। ইউনিয়ন/ওয়ার্ড পর্যায়ে করোনা পরিস্থিতির মাত্রা কম বলা হবে তখনই, যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান–সংলগ্ন এলাকায় ১৪ দিন আরটিপিসিআর টেস্টে করোনা পজিটিভ রোগীর শতকরা হার হবে ৩ থেকে ৫।

করোনার সংক্রমণে সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে আরও ১৭৪ জনের মৃত্যু হয়। একই সময় নতুন রোগী শনাক্ত হয় ৬ হাজার ৯৫৯ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, এ সময় মোট ৩৩ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ২১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ।

বিজ্ঞানী, জনস্বাস্থ্যবিদ ও চিকিৎসকেরা মনে করেন, এই পরিসংখ্যান করোনার প্রকোপ কতটা, তা যথাযথভাবে নির্দেশ করে না। ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের একজন গবেষক বাংলাদেশে করোনার টিকা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত আছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই গবেষক প্রথম আলোকে বলেন, কত শতাংশ আসলে সংক্রমিত, তা বুঝতে শিক্ষক, তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, গৃহিণী, রিকশাচালক, ফেরিওয়ালাসহ বিভিন্ন পেশা ও অবস্থানের মানুষকে পরীক্ষার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে কেবল উপসর্গ থাকা লোকদের। কিন্তু প্রকৃত অবস্থা বুঝতে গ্রাম, শহর, শহরতলিসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষকে পরীক্ষার আওতায় আনতে হবে। ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতির ওপর নির্ভর করায় করোনার প্রকোপ কতটা, সে সম্পর্কে মন্তব্য করা যাচ্ছে না।প্রস্তুতি কতটা আছে 

গত ৩০ মার্চ থেকে একবার দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিল, সব শ্রেণির ক্লাস প্রতিদিন হবে না। প্রথমে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের দ্বাদশ, মাধ্যমিক পর্যায়ের দশম ও প্রাথমিকের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন (সপ্তাহে ছয় দিন) ক্লাস হবে। আর শুরুর দিকে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে এক দিন ক্লাস হবে। নবম ও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে দুদিন করে ক্লাস হবে। আর প্রাক্-প্রাথমিকের ক্লাস বন্ধ থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কথা ছিল ২৪ মে। কিন্তু করোনার সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় তা আর হয়নি। মাউশি ওই সময়ই নিরাপদে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কীভাবে খোলা হবে, নিরাপদে শিক্ষাকার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করা হবে, অপেক্ষাকৃত সুবিধাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী করা হবে—এসব বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশনা দেয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর আগে ব্যাপক প্রচার চালানোর পরিকল্পনাও ছিল। পরিকল্পনার আওতায় অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলাপ করার কথা। 

জানা গেছে, ব্যাপক প্রচার চালানোর যে পরিকল্পনা, তার এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন নেই। কারণ, সরকার এখনো স্কুল-কলেজ কবে খোলা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেয়নি। অভিভাবকদের বড় অংশ চান খুলুক 

শিক্ষা নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থাগুলোর মোর্চা গণসাক্ষরতা অভিযানের এডুকেশন ওয়াচ ২০২০-২১ সমীক্ষার অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদনের তথ্য হলো, দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭৫ শতাংশ শিক্ষার্থী দ্রুত ক্লাসে ফিরতে চায়। আর ৭৬ শতাংশ অভিভাবক ও ৭৩ শতাংশ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্কুল খুলে দেওয়ার পক্ষে। 

শিক্ষা ও শিশুরক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক রাখাল রাহা প্রথম আলোকে বলেন, অন্য খাতকে যেভাবে সরকার গুরুত্ব দিয়েছে, শিক্ষাকে দেয়নি। বিশ্বের যেসব দেশ করোনার মারাত্মক সংক্রমণের মধ্যে দিয়ে গেছে, তারাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কখনো কখনো আবার বন্ধও করেছে। বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের শুরুতে মফস্বল বা গ্রামাঞ্চলে রোগের প্রকোপ ছিল না। অথচ সেখানেও স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

শিগগির নীতিমালা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ আছে কি না, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য কোনো মহড়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে জানতে মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ মো. গোলাম ফারুকের সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি।

ভারতের কয়েকটি খবরের বিস্তারিত

বিনা বাধায় নয়, যেভাবে তালিবানি রক্তচক্ষুর মধ্যে দূতাবাস কর্মীদের উদ্ধার করল দিল্লি- আনন্দবাজার পত্রিকার এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে,কাবুল থেকে ১৩০ জন ভারীয়কে নিয়ে মঙ্গলবার দেশে ফিরল ভারতীয় বায়ুসেনার বিমান। এর আগে সোমবার রাতে আরও একটি বিমানে করে ভারতীয়দের ফেরানো হয়েছে। তাদের মধ্যে দূতাবাসের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীরা রয়েছেন। কিন্তু তালিবানি নজরের মধ্যে ভারতীয়দের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া কিন্তু মোটেই মসৃণভাবে হয়নি। পদে পদে বেগ পেতে হয়েছে। তার মধ্যেই নিজেদের নাগরিকদের উদ্ধার করেছে নয়া দিল্লি।দৈনিকটির অপর কয়েকটি খবরে লেখা হয়েছে,একা মেয়র ঊর্ধ্বশ্বাস দৌড়! কাবুলের রাস্তা প্রায় মহিলাশূন্য, বিক্রি বাড়ছে বোরখার। এদিকে তালিবানি শাসনের ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছেন আফগানবাসী।অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কায় দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেনও অনেক। এসময় সবাইকে ক্ষমা করা হয়েছে এবং সবাইকে কাজে ফেরার আহবান জানিয়েছে তালেবানরা।

পিছিয়ে পড়ছেন নরেন্দ্র মোদি, এগোচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি-আজকাল পত্রিকার এ শিরোনামের খবরে লেখা হয়েছে,প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এখনও দেশের মানুষের প্রথম পছন্দ সেই নরেন্দ্র মোদিই। কিন্তু গত এক বছরে মোদির প্রতি সমথর্ন কমছে। অন্যদিকে জনপ্রিয়তার বিচারে অনেকটাই এগোলেন মমতা ব্যানার্জি। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যাম ইন্ডিয়া টুডের একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে এমনটাই।তাদের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদীকে পছন্দ ২৪ শতাংশ মানুষের। গতবছর দেশের ৬৬ শতাংশ মানুষের সমর্থন ছিল মোদীর প্রতি।

এদিকে দিলীপ ঘোষের মন্তব্য গণতন্ত্র মানে কি পোশাক ছাড়া রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো? –আজকাল

‘গণতন্ত্র মানে কি পোশাক ছাড়া রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো?’, বিতর্কিত মন্তব্য দিলীপ ঘোষের-সংবাদ প্রতিদিন এ শিরোনামের এ খবরে লেখা হয়েছে,একুশের নির্বাচনে বিপুল জয়ের পর তৃণমূলের নজরে ত্রিপুরা। সেখানে নিজেদের অস্বিত্ব প্রমাণের চেষ্টায় বিন্দুমাত্র খামতি রাখতে নারাজ ‘দিদির সৈনিক’রা।আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও পিছু হটতে রাজি নন তাঁরা। লাগাতার আক্রমণ নিয়ে ত্রিপুরা সরকারকে তুলোধোনাও করছে তৃণমূল নেতৃত্ব।অভিযোগ করেছে, ত্রিপুরায় গণতন্ত্র নেই। মঙ্গলবার শহিদ সম্মান যাত্রা শুরুর আগে সেই প্রসঙ্গেই তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ। এদিন তিনি বলেন, “নিজের রাজ্য ছেড়ে এখন ত্রিপুরা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে তৃণমূল। সেখানে গিয়ে অশান্তি করছে। বিপ্লব দেব পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে চলেছেন। তা সত্ত্বেও লাগাতার বিজেপিকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আমি তো বুঝতেই পারছি না গণতন্ত্রের অর্থ ওঁদের কাছে কী। গণতন্ত্র মানে কি জামা-কাপড় না পরেই রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো?” বিজেপি নেতার এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই উসকে দিয়েছে বিতর্ক। সোমবার কলকাতার কর্মসূচি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল দিলীপ ঘোষ, শুভেন্দু অধিকারীদের। সেই প্রসঙ্গেও তৃণমূলকে আক্রমণ করলেন মেদিনীপুরের সাংসদ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৮

 






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: