Main Menu

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব নিয়ে গোলাম মোর্তজা যা বললেন…


সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়া দোষের কিছু নয়; তবে বর্তমান বাস্তবতায় এই ব্যাংক হিসাব চাওয়ার মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকি বা একটা ভয় দেখানোর ব্যাপার কাজ করছে কি না সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন! রেডিও তেহরানকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে একথা বলেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক, সাপ্তাহিকের সম্পাদক, উপস্থাপক ও রাজনৈতিক ভাষ্যকার গোলাম মোর্তজা।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ব্যাপারটা যে খুব সরলভাবে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখে সেটা ভাবা একটু কঠিন। মনে হয় যে এখানে হয়তো অন্য কোনো আছে!

গোলাম মোর্তজা বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে যেহেতু অসংখ্য ইস্যু- কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে চোখ অন্যদিকে সরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কখনও কখনও একেকটা তৈরি করা হয় এবং বাংলাদেশে আমরা দেখেছি কখনও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কখনও কবর নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু জনজীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসে না। এটি আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের এই সংস্কৃতির অবসান হওয়া দরকার।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ, উপস্থাপনা ও তৈরি করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তজা, সাংবাদিকদের সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের ১১ নেতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। সাংবাদিকমহল থেকে দাবি করা হচ্ছে যে এসব নেতাকে হয়রানি করার  জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। তো সিনিয়র সাংবাদিক হিসেবে আপনার পর্যবেক্ষণ কি?

সাংবাদিক নেতাদের প্রতিবাদ

গোলাম মোর্তজা: আমার বক্তব্য হচ্ছে সরকার যদি চায় বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিকের ব্যাংক হিসাব কিংবা সম্পদের হিসাব চাইতে পারে এবং নিতে পারে। সেই হিসেবে সরকার যে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চেয়েছে এতে আমি কোনো সমস্যা দেখি না। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি মনে করি সরকার যে ব্যাংক হিসাব চেয়েছে তা সরকার সংগ্রহ করবে এমনকি সাংবাদিক নেতারা চাইলে তাঁরা নিজেরাও তাদের ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করতে পারে। এ পর্যন্ত আমি কোনো সমস্যা দেখি না। তবে যে জায়গাটাতে সমস্যা বলে মনে হয় সেটি হচ্ছে, এই ব্যাংক হিসাব চাওয়ার মধ্যে একটা প্রচ্ছন্ন হুমকি বা একটা ভয় দেখানোর ব্যাপার কাজ করছে কি না সেটা একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন! কেউ যদি কোনো কথা বলে, কেউ যদি কোনো ইস্যু নিয়ে সরব হয় তাহলে তাদের বাংলাদেশের মতো দেশে ব্যাংক হিসাব চাওয়া বা কোনো একটা কিছু চাওয়া মানে যতখানি না স্বচ্ছতার জন্য তার চেয়ে কিছু বিষয় কাজ করে একধরণের হয়রানি করার জন্য এক ধরণের নাজেহাল করার বিষয়। সেক্ষেত্রে সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ব্যাপারটা যে খুব সরলভাবে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার জন্য করা হয়েছে দৃশ্যমান বাস্তবতা দেখে সেটা ভাবা একটু কঠিন। মনে হয় যে এখানে হয়তো অন্য কোনো আছে!

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তজা এরইমধ্যে ব্যাংক হিসাব চাওয়ার ব্যাপারে সাংবাদিক নেতাদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। এটি চাওয়া কি দোষের কিছু? 

ব্যাংক হিসাবের প্রতিবাদে সাংবাদিক নেতারা

গোলাম মোর্তজা: না, ব্যাংক হিসাব চাওয়া দোষের কিছু না। সরকার ব্যাংক হিসাব চেয়েছে এবং নেবে সংবাদকর্মীরা ব্যাংক হিসাব দেবে। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সংবাদকর্মী এবং সাংবাদিক নেতা কিংবা সংগঠনগুলোর  কাছে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে দিন দিন বাংলাদেশে সাংবাদিকতা করাটা যে কঠিন হয়ে যাচ্ছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ এই ধরণের নিপীড়নমূলক যে আইন আছে সাংবাদিকতার পরিপন্থি- আজকে যে সাংবাদিক সংগঠনগুলো একত্রিত হয়েছে সেই একত্রিত প্রতিবাদ শুধু ব্যাংক হিসাব চেয়েছে সেজন্য নয় সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকতার পরিপন্থি ডিজিটাল আইন ও নিয়মের বিরুদ্ধে যেন তাদের প্রতিবাদ হয় সেটাই একজন সাংবাদিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা।

রেডিও তেহরান: সাংবাদিক সমাজ বলছে তাদের কণ্ঠরোধ করার জন্যই ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। এ বিষয়টিও কি থাকতে পারে?

গোলাম মোর্তজা: নিঃসন্দেহে এটি থাকতে পারে। হয়তো কয়েকজনেরটা চাওয়া হয়েছে অন্যদেরকে ভয় দেখানোর জন্য। প্রথম কথা হচ্ছে, পেশাজীবী যেসব সংগঠন আছে তাদের স্বচ্ছতার জন্য এই ব্যাংক হিসাব চাওয়া হচ্ছে কি না? অন্যান্য অনেক প্রতিষ্ঠান আছে-যাদের বিরুদ্ধে বড় বড় অভিযোগ আছে সেইসব জায়গাতে ব্যাংক হিসাব চাওয়া হচ্ছে কি না? নাকি এটা শুধুমাত্র সাংবাদিক সংগঠন বা সাংবাদিক নেতাদেরটা চাওয়া হচ্ছে। তো এখন পর্যন্ত যেহেতু সাংবাদিক নেতাদের বিষয়টি সামনে এসেছে সুতরাং সেই জায়গাটিতে একধরণের ভয়ভীতি, মুক্ত সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জায়গার প্রতি একটা হুমকি আছে বলে ধারণা করে নেওয়াই যায়!যদিও আমি বলছি ব্যাংক হিসাব চাওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই। 

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তাজা, আপনি আরেকটি বিষয় নিয়ে আসলেন  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ যেসব নিপীড়নমূল আইন আছে এবং আপনি নিজেও প্রশ্ন করলেন আরও অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন সাম্প্রতিক ঘটনা ইভ্যালি কাণ্ডসহ এধরণের ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।তাদের হিসাব তলব না কেন? এ বিষয়ে কি বৈষম্য করা হচ্ছে বা আসলে দৃষ্টি দেয়া হচ্ছে না?

ইভ্যালি প্রতারণা

গোলাম মোর্তজা: নিঃসন্দেহে বৈষম্য করা হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ইভ্যালি ই অরেঞ্জসহ যেসব প্রতিষ্ঠান সাধারণ জনগণের শত শত কোটি টাকা চুরি বাটপারি করে নিয়ে গেল-এই জায়গাটিতে সরকারের যখন করণীয় ছিল তখন সরকার কিছু করে নি। তখন সরকার দর্শক হিসেবে ছিল এখন সরকার তাদেরকে ধরছে। এর বিরুদ্ধে তো আগে ব্যবস্থা নেয়া দরকার ছিল। এর বাইরে যারা ব্যাংক দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের বিষয়ে সরকারের নীতিটা এত কঠোর না! শুধুমাত্র সংবাদকর্মীদের ক্ষেত্রে সরকারের নীতিটা এমন দেখা যাচ্ছে। তবে এখানে একটি কথা বলে রাখা দরকার সাংবাদিক নেতাদের প্রতিবাদ হওয়া উচিত মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার জন্য যা করণীয় সে ব্যাপারে। এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের দাবিগুলোকে সামনে আনা। শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাব কেন চাইল এই দাবিটাই যেন প্রধান না হয়ে যায়।

রেডিও তেহরান: জনাব গোলাম মোর্তজা সবশেষে আপনার কাছে জানতে চাইব, ইস্যুভিত্তিক একটি বিষয় বাংলাদেশে বেশ প্রকট। কোনো একটি ইস্যুকে নিয়ে বেশ কিছুদিন বেশ মাতামাতি হয় তারপর সেটি উধাও হয়ে যায়। এরপর অন্য কোনো ঘটনা অন্য কোনো বিষয় সামনে আসে। এমন প্রশ্ন ওঠে দৃষ্টি অন্যদিকে ফেরাতে এসব হয়ে থাকে। আপনি কি বলবেন?

গোলাম মোর্তজা: বাংলাদেশের মতো দেশে যেহেতু অসংখ্য ইস্যু- কোনো একটা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু থেকে চোখ অন্যদিকে সরানোর জন্য পরিকল্পিতভাবে কখনও কখনও একেকটা তৈরি করা হয় এবং বাংলাদেশে আমরা দেখেছি কখনও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কখনও কবর নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু জনজীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু অধিকাংশ ক্ষেত্রে আলোচনায় আসে না। এটি আমাদের দেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক। আমাদের এই সংস্কৃতির অবসান হওয়া দরকার।

রেডিও তেহরান: তো জনাব গোলাম মোর্তজা আবারও আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি-সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলব প্রসঙ্গে রেডিও তেহরানকে সময় দেয়ার জন্য।

 গোলাম মোর্তজা: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ।#

পার্সটুডে/গাজী আবদুর রশীদ/১৩






Related News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: