শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২ || ১৪ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম :
সাবেক নাম্বার ওয়ান প্লিসকোভাকে হারাল ২২৭-এ থাকা জিনজিয়ান সেভিয়া ছেড়ে অ্যাস্টন ভিলার পথে কার্লোস ইউক্রেনের দ্বিতীয় বড় শহর খারকিভে তীব্র লড়াই ইরাকি পার্লামেন্টে আইন পাস: ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে খাদ্য সংকট এড়াতে অবদান রাখব: পুতিন পার্টিগেট কেলেঙ্কারি: অকপটে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন জনসন স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন বাসিন্দারা, আবার রুশ হামলায় বিপর্যস্ত খারকিভ ইমরান খানকে প্রধান আসামি করে ইসলামাবাদ পুলিশের মামলা ম্যারাডোনার স্মৃতি নিয়ে উড়ন্ত জাদুঘর সুগার রোগীদের জন্য ম্যাজিক এই ফল, এর পাতা-ডাঁটা-মূলও রক্তের শর্করা দ্রুত কমাতে পারে!
দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ঋতু পেলেন গোল্ডেন জিপিএ-৫

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ঋতু পেলেন গোল্ডেন জিপিএ-৫


মুনিরা ইয়াসমিন ঋতু একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। এবার এইচএসসি পরীক্ষায় তিনি গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর আগে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও রাজশাহী বোর্ড থেকে ঋতু গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন। 

ঋতুর এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে বহু ত্যাগ-তিতিক্ষার গল্প। জন্ম থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মুনিরার পথ চলা মোটেও সহজ ছিল না। তার চোখের জ্যোতি একেবারেই কম। চিকিৎসার জন্য দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ডাক্তারের কাছে দৌড়ালেও ডাক্তাররা দেয় কষ্টের সংবাদ। 

মুনিরার চোখের কোনো চিকিৎসা নেই। চোখে চশমা পরিধান করে থাকলেও তা কোনোই কাজে আসে না। বাকিটা জীবন এভাবেই চলতে হবে। যতটুকু দেখতে পান তা সূর্যের আলো আর পড়ার জন্য প্রখর আলোসম্পন্ন টেবিল ল্যাম্পের মাধ্যমে। দিনের বেলাতেও চার দেয়ালের ভেতরে এলে লাগে টেবিল ল্যাম্প। পরীক্ষার সময় কেন্দ্রে যেখানে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক আলোতে লিখতে পারেন সেখানে মুনিরা শুধু মানুষের ছায়া ছাড়া আর কিছুই দেখতে পান না।

কেন্দ্রের ভেতরে যাতে পরীক্ষা দিতে পারে সেজন্য সব সময় টেবিল ল্যাম্প সঙ্গে নিয়ে নিয়ে ঘোরেন ঋতু। সূর্যের আলোতে দেখলেও তা কেবলই সামান্য। হাঁটার সময় সে খুব সাবধানে পা ফেলে। পরিচিত জায়গায় চলতে সুবিধা হলেও অপরিচিত জায়গায় একেবারেই হাঁটতে পারেন না।

২০০৯ সালে মুনিরার একাডেমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় রাজশাহীর ‘পিনাকল স্টাডি হোম’র মাধ্যমে। পরে ‘শাহিন স্কুল’ লক্ষ্মীপুর শাখায় ভর্তি হন দ্বিতীয় শ্রেণিতে। সেখানে তৃতীয় শ্রেণিতে তিনি তার মেধার মাধ্যমে বৃত্তি পান। তারপর রাজশাহীর ভদ্রা এলাকার সাইদুর রহমান একাডেমিতে ভর্তি হন চতুর্থ শ্রেণিতে। সেখানে চতুর্থ শ্রেণিতে বৃত্তি এবং পঞ্চম শেণিতে পান বোর্ড বৃত্তি। এরপর ভদ্রা এলাকায় অক্ষর একাডেমিতে ভর্তি হন ষষ্ঠ শ্রেণিতে।

সেখানে সফলতার সঙ্গে পড়াশোনা করে ২০১৬ সালের জেএসসি পরীক্ষায় রাজশাহী বোর্ড থেকে পান জিপিএ-৫। ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছিলেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। সর্বশেষ ২০২২ সালে প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পেয়েছেন গোল্ডেন জিপিএ-৫। 

কিন্তু সে যখন প্রাইমারি স্কুলে পড়তে যায় তখন অনেকেই বলেছে মুনিরা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তার দ্বারা পড়াশোনা হবে না। সে যখন টেবিল ল্যাম্পের মাধ্যমে লিখছে-পড়তো তখন বন্ধুরা খুব হাসাহাসি করত।

ঋতু রাজশাহী নগরের ভদ্রা এলাকায় পরিবারের সাথে বসবাস করেন। তাদের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার তেঘরিয়া গ্রামে। বাবা স্থানীয় একটি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মা মেরিনা পারভীন রিনা একজন গৃহিণী ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। 

মুনিরার একের পর এক এই সফলতার গল্পটা শুরু তার মা মেরিনা পারভীন রিনার হাত ধরেই। গত বছরের ১১ জুন মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত মেয়েকে সাহস জুগিয়েছেন তিনি। সুস্থ্য থাকা অবস্থায় সংসারের সব ঝামেলা সামলে চলে গেছেন মুনিরাকে নিয়ে স্কুলে বা কোচিং-এ। 

মুনিরার ছায়াসঙ্গী ছিলেন তার মা। মুনিরার অদম্য ইচ্ছাশক্তি তার মাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। মা হারা এই অদম্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরী তার স্বপ্নগুলোকে বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতে চান।

মুনিরা শুধু পড়াশোনাতেই না তার রয়েছে নানা সব প্রতিভা। সে ড্রয়িং করতে পারে যেকোনো কিছু। কবিতা, ছোটগল্প লিখাতেও সে পটু। দৃষ্টিহীনতাকে সামনে রেখে জীবনের নানা জটিলতাকে জয় করার ইচ্ছার কথা জানান মুনিরা। বড় হয়ে সে দৃষ্টিহীনদের জন্য কিছু করতে চায়। 

মুনিরা বলেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেকেই হাসাহাসি করেছে। আমি জানি এটা কত কষ্টের। আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যারা প্রতিবন্ধী তাদের জন্য একাডেমি প্রতিষ্ঠা করে ব্যবহারিক জ্ঞান দিতে চাই।’

এএইচ/



শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লাইট অফ টাইমস
Design & Developed By Eng.Md.Abu Sayed