শুক্রবার, মে ২৭, ২০২২ || ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম :
সাবেক নাম্বার ওয়ান প্লিসকোভাকে হারাল ২২৭-এ থাকা জিনজিয়ান সেভিয়া ছেড়ে অ্যাস্টন ভিলার পথে কার্লোস ইউক্রেনের দ্বিতীয় বড় শহর খারকিভে তীব্র লড়াই ইরাকি পার্লামেন্টে আইন পাস: ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন নিষিদ্ধ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে খাদ্য সংকট এড়াতে অবদান রাখব: পুতিন পার্টিগেট কেলেঙ্কারি: অকপটে দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন জনসন স্বাভাবিক জীবনে ফিরছিলেন বাসিন্দারা, আবার রুশ হামলায় বিপর্যস্ত খারকিভ ইমরান খানকে প্রধান আসামি করে ইসলামাবাদ পুলিশের মামলা ম্যারাডোনার স্মৃতি নিয়ে উড়ন্ত জাদুঘর সুগার রোগীদের জন্য ম্যাজিক এই ফল, এর পাতা-ডাঁটা-মূলও রক্তের শর্করা দ্রুত কমাতে পারে!
কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড রংপুর অঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড রংপুর অঞ্চলের শত শত ঘরবাড়ি-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রংপুর:

কালবৈশাখী ঝড় এবং শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে রংপুরের পাঁচটি উপজেলার কয়েক শতাধিক বাড়িঘর। হাজার হাজার গাছ পালা ভেঙে গেছে। কিছু জায়গায় বিল্ডিং ঘর ভেঙে যেতে দেখা গেছে। শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে শত শত একর আগাম উঠতি ফসলসহ শাক সবজির আবাদ। ক্ষতি হয়েছে ঐতিহ্যবাহী হাড়িভাঙ্গা আমের মুকুলের গুটি।

মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনায় খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে হাজার হাজার পরিবার। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং ভুক্তভোগীদের সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মিঠাপুকুরের বড়বালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম সরকার স্বপন জানিয়েছেন, তার ইউনিয়নের কেশবপুর, তরফবাহাদী, নয়াপাড়াসহ দশটি গ্রামের কয়েকশ’ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মুহূর্তেই অনেক বাড়িঘরের টিনের ছাদ উড়ে চলে গেছে। অনেক বাসাবাড়ি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গাছ উপড়ে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে গেছে। বাতাসে ভেঙ্গে গেছে গাছপালা, উড়ে গেছে ঘরের টিন। ঘর বাড়ির টিনের চালা, ইট এবং ভেঙ্গে পড়া গাছপালার আঘাতে আহত হয়েছেন অন্তত ১০/১৫ জন। অনেকের টিনে কাটা গেছে শরীর। জরুরি ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর দাবিও জানান তিনি।

মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুল হক জানান, শিলাবৃষ্টি এবং কালবৈশাখী থেকে সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাড়িভাঙ্গা আমের বাগান। মুকুল শেষে সব বাগানে আম গুটিগুটি হচ্ছিল। প্রায় সব বাঙালিরই একটি বড় অংশের গুটি শিলা বৃষ্টি ঝরে মাটিতে পড়ে গেছে। এতে আম চাষিরা উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন।

অন্যদিকে কাউনিয়া উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আনসার আলী জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে কালবৈশাখীতে তার ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের মৌলভীবাজার এলাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বাড়িঘরের ৩ উড়ে গেছে। গাছপালা ভেঙ্গে বাড়িঘর এবং রাস্তায় পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। শত শত মানুষ খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন।

এই উপজেলার শহীদবাগ ইউনিয়ন সারাই ইউনিয়ন এবং হারাগাছ পৌর এলাকাসহ তিস্তার চরাঞ্চলে অনেক বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উঠতি ভুট্টা আগাম আমনসহ শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে শিলাবৃষ্টিতে।

এছাড়াও শিলাবৃষ্টি ও কালবৈশাখীতে গঙ্গাচড়ার খলেয়া, নোহালি, আলমবিদিতর, সদর উপজেলার পাগলাপীর, সদ্যপুস্করনী, বদরগঞ্জের লোহানীপাড়া কুতুবপুর ইউনিয়নসহ রংপুর বিভাগের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক ইউনিয়নের কয়েক হাজার বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার হাজার হাজার গাছপালা উপড়ে গেছে। মধ্যরাত থেকে বন্ধ আছে এসব এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছেন হাজার হাজার মানুষ। বিশেষ করে নারী শিশু ও বৃদ্ধদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪৫ কিলোমিটার বেগে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী এবং শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এই সময় প্রায় ৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

ইউএইচ/



শেয়ার

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩১৪১৫
১৬১৭১৮১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭২৮২৯
৩০৩১  
© ২০২২ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত লাইট অফ টাইমস
Design & Developed By Eng.Md.Abu Sayed